u/nazz619

এটা ২০২৬, ২০০২ না!

এটা ২০২৬, ২০০২ না!

শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার আগেই যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, আজ যেন সেটাই অক্ষরে অক্ষরে ফলে যাচ্ছে। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন মিলন সাহেব হয়তো সত্যিই শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো আমূল পরিবর্তন আনবেন, আগের সিস্টেমের ভুলগুলো শুধরে নতুন কিছু করবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পরিবর্তনের নামে তিনি এখন শিক্ষার্থীদের ঘাড়েই সব বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন। আগের সিস্টেমকে 'ভিলেন' বানাতে গিয়ে বর্তমান ব্যাচগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, তা সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন।

বাস্তবতা হলো, ক্লাসরুমের পরিবেশ উন্নত করার কোনো উদ্যোগ নেই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে নজর নেই, এমনকি শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন কি না—সেদিকেও কারো মাথাব্যথা নেই। অথচ সব নজর গিয়ে পড়েছে শুধু পরীক্ষার ওপর। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির ইন্টারভিউ দেখলে যখন মনে হয় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আস্থার জায়গাটা নষ্ট হয়ে যায়।

"কোচিং থাকবে না"—এভাবে শুধু হুকুম দিলেই কি সমাধান সম্ভব? আমাদের মূল সমস্যাটা তো সেখানেই রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা কেন স্কুল-কলেজ ছেড়ে কোচিংয়ের দিকে ছুটছে, সেই কারণটা কি খোঁজা হয়েছে? ক্লাসে যদি মানসম্মত পড়াশোনা নিশ্চিত না হয়, তবে শিক্ষার্থীরা বিকল্প পথ খুঁজবেই। শিকড়ে যে পচন ধরেছে, সেটা দূর না করে শুধু পাতা ছাঁটলে গাছ বাঁচে না। এভাবে পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্ত আর একগুঁয়েমি আমাদের পুরো প্রজন্মকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

u/nazz619 — 10 hours ago

বিএনপি হাঁটছে লীগের পথেই

ভোলায় বিবি সাওদা ইসলাম নামের এক নারীকে রাত দুপুরে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সরাসরি নাগরিক অধিকারের ওপর আঘাত। সিভিল ড্রেসে বা রাতের অন্ধকারে কোনো নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই কেবল ৫৪ ধারায় চালান দেওয়া—পুরানো সেই ফ্যাসিবাদী আমলের ভীতি জাগানিয়া স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

তদন্তে যদি তার প্রোফাইলে কোনো দণ্ডযোগ্য অপরাধ খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে কেবল 'ভিউ বৃদ্ধি' বা 'সরকার ও নেতার সমালোচনা'র অজুহাতে কাউকে আটক করা স্পষ্টতই বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া মানেই হলো রাষ্ট্রের ওপর জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হওয়া। বিশেষ করে এই নাজুক সময়ে পুলিশের এমন 'অতি উৎসাহী' আচরণ পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলতে পারে।

একজন নাগরিকের যৌক্তিক সমালোচনা করার অধিকার আছে এবং সেই সমালোচনা যদি আইনসম্মত হয়, তবে তাকে হেনস্তা করা আইনের শাসন নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার। এই ঘটনার পেছনের কুশীলবদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকে, তবে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং এই অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

একটি ছোট ঘটনা থেকেই বড় বড় অবিচারের জন্ম হয়। তাই সময় থাকতেই এই ধরণের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে হবে, যাতে রাষ্ট্র আর নাগরিককে কেউ মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ না পায়।

ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

u/nazz619 — 12 hours ago

হাসিনাইলিয়াস আলীর বাসায় গিয়ে তার ছোট সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন

২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বনানী থেকে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কেবল একটি অপহরণ ছিল না, ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাজানো এক পৈশাচিক নাটক। অভিযোগ রয়েছে, র‍্যাবের একটি দল তাকে তুলে নেওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হত্যা করে লাশ ধলেশ্বরী নদীতে ডুবিয়ে দেয়। কিন্তু গা শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, মানুষটি যখন আর পৃথিবীতে নেই, তখন তার পরিবার এবং গোটা জাতির সাথে এক সপ্তাহ ধরে সমবেদনার নামে চূড়ান্ত প্রহসন চালানো হয়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ইলিয়াস আলীর বাসায় গিয়ে তার ছোট সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। অথচ পর্দার আড়ালে তখন ভিন্ন চিত্রনাট্য চলছিল। একদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ উপহাস করে বলছিলেন, ইলিয়াস আলী নাকি 'খালেদা জিয়ার শাড়ির আঁচলে লুকিয়ে আছেন', অন্যদিকে র‍্যাবের কর্মকর্তারা বারবার ফোন করে পরিবারটিকে আশার বাণী শুনিয়েছেন। কখনো বলা হয়েছে পুবাইলে তাকে পাওয়া যেতে পারে, কখনো বা কুলাউড়া সীমান্তে।

এই মিথ্যা আশ্বাসে বুক বেঁধে নিখোঁজ মানুষটির স্ত্রী ও সন্তানরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হন্যে হয়ে ছুটেছেন। অথচ যারা এই আশ্বাস দিচ্ছিলেন, তারা ভালো করেই জানতেন যে ইলিয়াস আলীকে ততক্ষণে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই উড়ো খবরগুলো ছড়ানো হয়েছিল মূলত জনরোষ দমানোর জন্য এবং গুমের দায় থেকে মুক্তি পেতে।

একটি পরিবার যখন তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করছিল, তখন রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের সাথে যে নির্মম রসিকতা করেছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। খুনের পর সান্ত্বনার নাটক সাজানো আর তদন্তের নামে পরিবারটিকে বিভ্রান্ত করে ছুটিয়ে মারা—এই পৈশাচিকতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কিত সত্য হয়ে থাকবে।

u/nazz619 — 2 days ago

অথচ আমাদের দেশের চিত্রটা কতটাই না ভিন্ন

নেপালের নবনির্বাচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধান গুরাঙের কর্মকাণ্ড আজ সারা বিশ্বের জন্য এক অনন্য উদাহরণ। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি যেভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ৩০ জনের বেশি দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালকে গ্রেফতার করেছেন, তা অবিশ্বাস্য। নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে তিনি দিনরাত অফিসে কাজ করছেন, এমনকি কাজের চাপে অফিসেই ঘুমিয়ে পড়ছেন—দেশপ্রেমের এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে? তাঁর স্পষ্ট কথা, সরকার বা সংবিধান নয়, বরং জনগণই সবকিছুর ঊর্ধ্বে; কারণ জনগণই এসব তৈরি করে।

অথচ আমাদের দেশের চিত্রটা কতটাই না ভিন্ন। আমাদের এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন সংসদে দাঁড়ান, তখন তিনি যেন নিজেই বিচারপতির ভূমিকা পালন করেন। যে অধ্যাদেশের পক্ষে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে রায় দিয়েছে, তিনি অনায়াসেই সেই জনরায়কে অবৈধ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নিজের ইচ্ছামতো। যেখানে জনমতকে সম্মান জানানোই প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল, সেখানে তিনি জনগণের রায়কে থোড়াই কেয়ার করছেন।

ছবি : ফেসবুক।

u/nazz619 — 3 days ago