
এটা ২০২৬, ২০০২ না!
শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার আগেই যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, আজ যেন সেটাই অক্ষরে অক্ষরে ফলে যাচ্ছে। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন মিলন সাহেব হয়তো সত্যিই শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো আমূল পরিবর্তন আনবেন, আগের সিস্টেমের ভুলগুলো শুধরে নতুন কিছু করবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পরিবর্তনের নামে তিনি এখন শিক্ষার্থীদের ঘাড়েই সব বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন। আগের সিস্টেমকে 'ভিলেন' বানাতে গিয়ে বর্তমান ব্যাচগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, তা সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন।
বাস্তবতা হলো, ক্লাসরুমের পরিবেশ উন্নত করার কোনো উদ্যোগ নেই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে নজর নেই, এমনকি শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন কি না—সেদিকেও কারো মাথাব্যথা নেই। অথচ সব নজর গিয়ে পড়েছে শুধু পরীক্ষার ওপর। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির ইন্টারভিউ দেখলে যখন মনে হয় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আস্থার জায়গাটা নষ্ট হয়ে যায়।
"কোচিং থাকবে না"—এভাবে শুধু হুকুম দিলেই কি সমাধান সম্ভব? আমাদের মূল সমস্যাটা তো সেখানেই রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা কেন স্কুল-কলেজ ছেড়ে কোচিংয়ের দিকে ছুটছে, সেই কারণটা কি খোঁজা হয়েছে? ক্লাসে যদি মানসম্মত পড়াশোনা নিশ্চিত না হয়, তবে শিক্ষার্থীরা বিকল্প পথ খুঁজবেই। শিকড়ে যে পচন ধরেছে, সেটা দূর না করে শুধু পাতা ছাঁটলে গাছ বাঁচে না। এভাবে পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্ত আর একগুঁয়েমি আমাদের পুরো প্রজন্মকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।