আমি ভগবদগীতা মানি না।
সম্প্রতি একটি পোস্ট দেখলাম বিজেপি বাড়ি বাড়ি ভগবদগীতা দান করছে। আমি কোনো বই কেই অশ্রদ্ধা করি না, কিন্তু গীতায় যে দার্শনিক ভাবধারাটিকে তুলে ধরা হয়েছে সেটা আমি মানি না। আমি মনে করি বেদ পরবর্তি যুগে কিছু বিকৃত দর্শনের প্রবেশ ঘটেছে ভগবদগীতার মাধ্যমে, কিন্তু এই মতাদর্শ আমাদের দেশের ক্ষতি করেছে এবং এটি ভুল দর্শন।
এই সেই বই, যা কর্মফলের গল্প শোনায়, মানুষকে মারতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি এই বইটি মানি না। আমি মনে করি না মানুষ কর্মের ফলে কষ্ট পায়। রামকৃষ্ণ ঠাকুর কিংবা ঋষি অরবিন্দ পাপী ছিলেন না। ক্ষুদিরাম বসু কিংবা মাতঙ্গিনী হাজরা পাপী তাপী মানুষ ছিলেন না। আমি চোখের সামনে দেখেছি তিল তিল করে লোকের জীবন শেষ করে দেওয়া ধোঁকাবাজ মানুষ রিটায়ার্ড লাইফে ছেলে বউমা নাতি পুতি নিয়ে মজাসে দিন কাটাচ্ছে। আমি মনে করি না একটা মানুষ পূর্বজন্মে কোন পাপ করে থাকলে ইহজন্মে বিনা স্মৃতিতে বিনা জ্ঞানে তাকে শাস্তি দেওয়াটা কোনো সুবিচার। এই ধর্মমতের কারণেই ভারতে বড় কোন শ্রমিক বিপ্লব হয় নি। কারণ সবাই নিজ কর্মকে দোষ দিয়েছে, পরিবেশগত অত্যাচারটা দেখে নি। ফলের আশা করে নি। মাত্র কয়েক হাজার ইঙরেজ ভারত দখল করেছে তার কারণ ভারতের লোকেরা কেবল ত্যাগ করতে শিখেছে এবং নিজেকে পরিবর্তিত করতে শিখেছে। বাইরের কোনদেশে কোন মেয়েকে কেউ ধর্ষণ করলে ধর্ষককে শাস্তি দেওয়া হয়। আমাদের দেশে কিছু বছর আগে পর্যন্ত কোনো মেয়েকে ধর্ষণ করা হলে সে নিজেই নিজেকে হত্যা করতো। মুঘল আমলেও ভারতীয় হিন্দু নারীর আত্মহত্যাকে মহৎ করে দেখানো হয়েছে। গীতার আত্মার ধারণা ভ্রান্ত। আত্মা কোনো গণনযোগ্য বস্তু নয়, এটি একটি ঘটনা (phenomenon)। মৃত্যুর পর আত্মা থাকে এরূপ কোন প্রমাণ নেই। আত্মা অবিনশ্বর এই আশ্বাসের সবচাইতে বড় "অনুসিদ্ধান্ত" হলো মানুষ মারতে এবং মরতে কোনো ভয় বা অপরাধবোধ থাকে না। অনেকগুলি ছোট ছোট ভ্রান্ত দার্শনিক মতবাদ কে এত consistently এই বইতে সাজানো হয়েছে যা দিয়ে একটি নকল বিশ্ব কল্পনা করা যায়। এই গ্রন্থে বর্ণিত মতাদর্শ আমাদের দেশকে পিছিয়ে রেখেছে।